সেরা ১০টি AI Text to Video Generator ওয়েবসাইটঃ প্রফেশনাল ভিডিও তৈরির সহজ উপায়

২০২৬ সালের সেরা ১০টি AI Text to Video Generator ওয়েবসাইট সম্পর্কে জানুন। টেক্সট থেকে হাই-কোয়ালিটি ভিডিও তৈরির ফ্রি ও পেইড এআই টুলসগুলোর বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা দেখে নিন এক পলকে।
 
সেরা ১০টি AI Text to Video Generator ওয়েবসাইট
কনটেন্ট ক্রিয়েটার ও মার্কেটারদের জন্য এই এ আই টুলগুলোর সঠিক ব্যবহার পদ্ধতি এখানে তুলে ধরা হয়েছে। আপনার ভিডিও তৈরির অভিজ্ঞতা কে আরো সহজ ও উন্নত করতে আজই সেরা এ আই জেনারেটরগুলো বেছে নিন ।

পেজ সূচীপত্রঃ সেরা ১০টি AI Text to Video Generator ওয়েবসাইটঃ প্রফেশনাল ভিডিও তৈরির সহজ উপায়

Runway Gen-3 Alpha: হাইপার রিয়েলিস্টিক এন্ড সিনেমাটিক ভিডিওর নতুন বিপ্লব

Runway Gen-3 Alpha হলো একটি অত্যাধুনিক AI ভিডিও জেনারেশন মডেল, যা টেক্সট বা ছবি থেকে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত (Photorealistic) এবং উচ্চমানের ভিডিও তৈরি করতে সক্ষম। এটি মূলত আগের মডেল Gen-2-এর তুলনায় অনেক বেশি উন্নত এবং সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণের সুবিধা দেয়। 

নিচে Runway Gen-3 সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলোঃ

১. প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ (Key Features)

  • উচ্চমানের ভিজ্যুয়াল (High Fidelity) ঃ এটি সিনেমাটিক কোয়ালিটির ভিডিও তৈরি করে, যেখানে আলোর প্রতিফলন, ছায়া এবং টেক্সচার একদম বাস্তব মনে হয়।
  • অসাধারণ মোশন কন্ট্রোলঃ মানুষের হাঁটা, দৌড়ানো বা সূক্ষ্ম শারীরিক নড়াচড়া আগের চেয়ে অনেক বেশি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে। দীর্ঘ সময়ের ভিডিও: Gen-3 ব্যবহার করে ৫ থেকে ১০ সেকেন্ডের হাই-ডেফিনিশন ভিডিও ক্লিপ তৈরি করা যায়।
  • টেম্পোরাল কনসিস্টেন্সি (Temporal Consistency): ভিডিওর এক ফ্রেম থেকে অন্য ফ্রেমে বস্তুর আকৃতি বা রঙ পরিবর্তন হয়ে যায় না, যা AI ভিডিওর একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
  • ক্যামেরা কন্ট্রোল: জুম, প্যান বা ড্রোন শটের মতো জটিল ক্যামেরা মুভমেন্ট নিখুঁতভাবে পরিচালনা করা যায়।

২. ব্যবহারের ক্ষেত্র (How to Use) 

আপনি মূলত তিনভাবে এটি ব্যবহার করতে পারেন:
  • Text-to-Video: শুধু একটি বিস্তারিত বর্ণনা লিখে ভিডিও তৈরি করা। (যেমন: "A futuristic city at night with neon lights and rain.")
  • Image-to-Video: আপনার দেওয়া কোনো ছবিকে জীবন্ত ভিডিওতে রূপান্তর করা।
  • Video-to-Video: একটি ভিডিওর স্টাইল বা ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন করে নতুন রূপ দেওয়া।

৩. কিভাবে শুরু করবেন?

  •  RunwayML ওয়েবসাইটে গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন।
  •  ড্যাশবোর্ড থেকে Gen-3 Alpha বা Gen-3 Alpha Turbo (যা আরও দ্রুত কাজ করে) সিলেক্ট করুন।
  •  আপনার প্রম্পট বা ছবি ইনপুট দিন এবং 'Generate' বাটনে ক্লিক করুন।
  •  সেরা আউটপুট পেতে আপনার প্রম্পটে আলোকসজ্জা (Lighting), ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল এবং মুড সম্পর্কে বিস্তারিত লিখুন। যেমন: "Cinematic lighting, 4k, slow motion, hyper-realistic."

Pika Labs বা Pika. Art: অ্যানিমেশন এবং সৃজনশীল ভিডিও এফেক্ট এর জন্য সেরা

Pika Labs (যা বর্তমানে Pika.art নামে পরিচিত) হলো একটি অত্যন্ত শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত ভিডিও জেনারেশন প্ল্যাটফর্ম। 

এর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর সৃজনশীল টুলস বা "Pikaffects"।এটি টেক্সট (Text) বা ছবি (Image) থেকে মুহূর্তের মধ্যে চমৎকার সব অ্যানিমেশন এবং শর্ট ভিডিও তৈরি করতে পারে। এটি বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের কাছে খুব জনপ্রিয়।

১. পিকা ল্যাবস-এর প্রধান ফিচারসমূহঃ

  • Text-to-Video: আপনি যা ভাবছেন তা লিখে দিলে AI সেটি ভিডিওতে রূপান্তর করবে। যেমন: "A cat flying on a magic carpet."
  • Image-to-Video: যেকোনো স্থির ছবি আপলোড করে সেটিকে জীবন্ত অ্যানিমেশনে রূপান্তর করা যায়।
  • Pikaffects: এটি পিকার একটি বিশেষ ফিচার। এর মাধ্যমে ভিডিওর কোনো বস্তুকে 'বিস্ফোরণ' (Explode), 'গলিয়ে ফেলা' (Melt), 'ফুলিয়ে দেওয়া' (Inflate) বা 'চ্যাপ্টা' (Crush) করার মতো মজার ইফেক্ট দেওয়া যায়।
  • Lip Sync: ভিডিওর চরিত্রের মুখে ভয়েস বা সংলাপ বসানো যায় এবং চরিত্রটি নিখুঁতভাবে কথা বলবে।
  • Modify Region: ভিডিওর কোনো নির্দিষ্ট অংশ (যেমন: জামার রঙ বা ব্যাকগ্রাউন্ড) সিলেক্ট করে পরিবর্তন করা যায়।
  • Extended Duration: বর্তমানে Pika 2.2 মডেলের মাধ্যমে ১০ সেকেন্ড পর্যন্ত লম্বা ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। ২. এটি কীভাবে ব্যবহার করবেন?

২. ব্যবহারের ক্ষেত্র (How to Use) 

ওয়েবসাইট (pika.art): সরাসরি তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে গুগল বা ডিসকর্ড অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করে খুব সহজ ইন্টারফেসে ভিডিও তৈরি করা যায়।

ডিসকর্ড (Discord): আপনি যদি ডিসকর্ড ব্যবহারকারী হন, তবে তাদের সার্ভারে জয়েন করে /create কমান্ডের মাধ্যমে ভিডিও জেনারেট করতে পারেন। 

 ৩. প্যাকেজ এবং খরচ (Pricing)

  • ফ্রি প্ল্যান (Free): প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু ক্রেডিট (সাধারণত ৩০-৮০ ক্রেডিট) ফ্রিতে পাওয়া যায়। তবে ভিডিওতে ওয়াটারমার্ক থাকে।
  • স্ট্যান্ডার্ড প্ল্যান (Standard): প্রতি মাসে প্রায় $১০ খরচ হয়, যেখানে বেশি ক্রেডিট এবং দ্রুত ভিডিও তৈরির সুবিধা থাকে।
  • প্রো প্ল্যান (Pro): প্রতি মাসে প্রায় $৩৫ এর মতো খরচ। এটি বাণিজ্যিক ব্যবহারের (Commercial use) জন্য সেরা এবং এতে কোনো ওয়াটারমার্ক থাকে না।

৪. আপনার জন্য টিপস

পিকা ল্যাবস থেকে ভালো রেজাল্ট পেতে আপনার Prompt বা বর্ণনাটি বিস্তারিত লিখুন। যেমন: শুধু "A bird flying" না লিখে লিখুন "A colorful parrot flying through a lush green jungle, cinematic lighting, 4k resolution"।

Luma AI (Dream Machine) : উচ্চমানের এবং দ্রুততম ভিডিও জেনারেশন এর টুল

Luma AI (Dream Machine) হলো বর্তমান সময়ের অন্যতম উন্নত এবং জনপ্রিয় AI ভিডিও জেনারেটর। এটি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে টেক্সট (Text) বা ছবি (Image) থেকে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ভিডিও তৈরি করতে পারে। ২০২৪ সালে আত্মপ্রকাশের পর থেকে এটি ভিডিও এডিটর, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং ফিল্মমেকারদের কাছে একটি শক্তিশালী টুল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। নিচে এর বিস্তারিত ফিচার ও ব্যবহারের নিয়মগুলো দেওয়া হলো:

১. মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ (Key Features)

  • Text-to-Video: আপনি যা ভাবছেন তা লিখে দিলেই Luma AI সেটি ভিডিওতে রূপান্তর করবে। যেমন: "একটি ড্রাগন পাহাড়ের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে।"
  • Image-to-Video: কোনো স্থির ছবি আপলোড করে সেটিকে প্রাণবন্ত ভিডিওতে পরিণত করা যায়। এটি ছবির সাবজেক্ট এবং ব্যাকগ্রাউন্ডের মুভমেন্ট খুব সুন্দরভাবে বুঝতে পারে।
  • Ray 3 Model (সর্বশেষ সংস্করণ): এর নতুন 'Ray 3' মডেলটি আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত ফিজিক্স, লাইটিং এবং মোশন বুঝতে পারে। ফলে ভিডিওগুলো দেখতে একদম আসল সিনেমার মতো মনে হয়।
  • Extend & Loop: ৫-১০ সেকেন্ডের ভিডিওকে আরও বড় করার (Extend) বা লুপ (Loop) করার সুবিধা রয়েছে।
  • High Resolution: এটি ১০৮০পি (Full HD) এবং এমনকি ৪কে (4K) রেজোলিউশনে ভিডিও আউটপুট দিতে সক্ষম।

২. কেন এটি অনন্য?

Luma Dream Machine-এর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর 'Motion Understanding'। অন্যান্য অনেক AI ভিডিও জেনারেটর যেখানে মুভমেন্টের সময় অবজেক্ট নষ্ট করে ফেলে, Luma সেখানে মানুষের হাঁটাচলা বা ক্যামেরার প্যানিং (Panning) খুব নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে।

৩. ব্যবহারের নিয়ম

প্রথমে Luma Labs-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান। আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগ-ইন করুন।নিচের বক্সে আপনার প্রম্পট (ভিডিওর বর্ণনা) লিখুন অথবা একটি ছবি আপলোড করুন। এরপর তীর চিহ্নে ক্লিক করলে কিছুক্ষণ প্রসেসিং হয়ে ভিডিওটি তৈরি হয়ে যাবে।

৪. সাবস্ক্রিপশন ও মূল্য (Pricing - ২০২৬ এর আপডেট অনুযায়ী)

  • Free $0 প্রতি মাসে ৫০০ ক্রেডিট (লিমিটেড ব্যবহার ও ওয়াটারমার্ক থাকবে)
  • Lite $9.99 ৩,২০০ ক্রেডিট, উচ্চ অগ্রাধিকার (Priority) ও Ray 3 সাপোর্ট
  • Plus $29.99 ১০,০০০ ক্রেডিট, কোনো ওয়াটারমার্ক নেই এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের লাইসেন্স
  • Unlimited $94.99 আনলিমিটেড জেনারেশন (Relaxed mode-এ)

৫. সীমাবদ্ধতা

  • জটিল টেক্সট: ভিডিওর ভেতরে কোনো লেখা (Text) দেখাতে চাইলে এটি এখনও কিছুটা ভুল করে।
  • অঙ্গপ্রত্যঙ্গ (Limbs): খুব দ্রুত নড়াচড়া করার সময় অনেক সময় হাত বা পায়ের শেপ কিছুটা বদলে যেতে পারে।

Synthesia (সিনথেশিয়া): প্রফেশনাল এআই অ্যাভাটার ব্যবহার করে ভিডিও প্রেজেন্টেশন

Synthesia (সিনথেশিয়া) হলো বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় একটি AI Video Generation Platform। এটি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এমন ভিডিও তৈরি করে, যেখানে একজন ডিজিটাল মানুষ (Avatar) আপনার দেওয়া টেক্সট বা স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী কথা বলে। সহজ কথায়, আপনার নিজের ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর বা কথা বলার প্রয়োজন নেই আপনি শুধু লিখে দেবেন, আর AI সেটি দিয়ে প্রফেশনাল ভিডিও তৈরি করে দেবে।

নিচে Synthesia সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. এটি কীভাবে কাজ করে?

  • Avatar নির্বাচন: আপনি শতাধিক ডিজিটাল অবতারের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নিতে পারেন।
  • স্ক্রিপ্ট লেখা: আপনি যে কথাগুলো ভিডিওতে বলাতে চান, তা বক্সে লিখুন।
  • ভাষা পছন্দ করা: এটি বাংলাসহ ১৪০টিরও বেশি ভাষা সমর্থন করে।
  • ভিডিও তৈরি: এরপর AI স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবতারের ঠোঁটের নড়াচড়া (Lip-syncing) এবং অঙ্গভঙ্গি মিলিয়ে ভিডিও তৈরি করে দেয়।

২. প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ (Key Features)

  • AI Avatars: এখানে প্রায় ১৬০টির বেশি বৈচিত্র্যময় অবতার রয়েছে। আপনি চাইলে নিজের মতো করে "Custom Avatar" তৈরি করতে পারেন।
  • AI Voices: আপনার স্ক্রিপ্ট পড়ার জন্য অনেক ধরণের কন্ঠস্বর (Male/Female) পাওয়া যায়
  • Multilingual: এটি ১২০টিরও বেশি ভাষায় ভিডিও তৈরি করতে সক্ষম, যার মধ্যে বাংলা অন্যতম
  • Video Templates: প্রফেশনাল প্রেজেন্টেশন বা ট্রেনিং ভিডিওর জন্য অনেকগুলো রেডিমেড টেমপ্লেট রয়েছে।
  • Easy Editing: এটি ব্যবহার করা পাওয়ার পয়েন্ট (PowerPoint) স্লাইড তৈরির মতোই সহজ। কোনো ভিডিও এডিটিং স্কিল লাগে না।

৩. ব্যবহারের ক্ষেত্র (Use Cases)

  • Corporate Training: কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য শিক্ষামূলক ভিডিও তৈরি।
  • Marketing & Sales: পন্যের প্রচার বা কাস্টমারদের জন্য ডেমো ভিডিও তৈরি।
  • Learning & Development: অনলাইন কোর্স বা টিউটোরিয়াল তৈরি।
  • Personalization: গ্রাহকদের নাম ধরে পার্সোনালাইজড মেসেজ পাঠানো।

৪. সুবিধা এবং অসুবিধা

  • স্টুডিও, ক্যামেরা বা মাইকের প্রয়োজন নেই। মাঝেমধ্যে অবতারের মুভমেন্ট কিছুটা রোবটিক মনে হতে পারে।
  • ভিডিও তৈরির খরচ ও সময় অনেক কমিয়ে দেয়। এর প্রিমিয়াম প্ল্যানগুলোর দাম কিছুটা বেশি।
  • খুব সহজে আপডেট বা এডিট করা যায়। খুব বেশি ইমোশনাল বা জটিল অঙ্গভঙ্গি এখনো নিখুঁত নয়।

৫. খরচ (Pricing)

  • Free: একটি নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতার মধ্যে ব্যবহার করা যায়।
  • Starter/Creator: ছোট খাটো প্রজেক্ট বা ফ্রিল্যান্সারদের জন্য।
  • Enterprise: বড় কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য কাস্টম প্রাইসিং।

HeyGen: নিখুঁত লিপ-সিঙ্কিং এবং পার্সোনালাইজড ভিডিও তৈরির মাধ্যম

HeyGen হলো একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং জনপ্রিয় AI ভিডিও জেনারেটর প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে কোনো ক্যামেরা বা স্টুডিও ছাড়াই বাস্তবসম্মত ভিডিও তৈরি করা যায়। আপনি শুধু টেক্সট লিখে দিলেই এটি একজন মানুষের মতো দেখতে AI Avatar ব্যবহার করে কথা বলা ভিডিও তৈরি করে দেয়।

নিচে HeyGen AI-এর কাজ এবং বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. HeyGen কী কাজ করে?

  • AI অবতার (Avatars): ১০০-এর বেশি বিভিন্ন জাতি ও বয়সের ডিজিটাল মানুষ (Avatars) থেকে আপনার পছন্দেরটি বেছে নিতে পারেন।
  • ভয়েস ওভার (Voiceover): ১৭৫টির বেশি ভাষায় ৩০০টির বেশি কণ্ঠস্বর ব্যবহার করা যায়। আপনি নিজের কণ্ঠও ক্লোন করে ব্যবহার করতে পারবেন।
  • ভিডিও অনুবাদ (Video Translation): আপনার ধারণ করা ভিডিওর ভাষা পরিবর্তন করে অন্য ভাষায় রূপান্তর করা যায়, যেখানে ভিডিওর ব্যক্তির ঠোঁটের নড়াচড়া (Lip-Sync) একদম প্রাকৃতিক দেখায়।

২. প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

  • Photo Avatar: আপনার নিজের বা অন্য কারো স্থির ছবি আপলোড করে সেটিকে কথা বলা ভিডিওতে রূপান্তর করতে পারেন।
  • Personalized Video: একই ভিডিওতে বারবার নাম বা তথ্য পরিবর্তন করে শত শত মানুষের জন্য আলাদা ভিডিও তৈরি করা সম্ভব।
  • Templates: দ্রুত ভিডিও বানানোর জন্য প্রচুর রেডিমেড টেমপ্লেট পাওয়া যায়।
  • Face Swap: আপনার ভিডিওতে থাকা অবতারের চেহারার বদলে নিজের চেহারা বসাতে পারেন।

৩. এটি কীভাবে ব্যবহার করবেন?

  • Avatar নির্বাচন করুন: প্রথমে HeyGen-এর লাইব্রেরি থেকে একটি অবতার বেছে নিন।
  • স্ক্রিপ্ট লিখুন: অবতারটি কী বলবে তা টেক্সট বক্সে লিখুন।
  • ভাষা ও কন্ঠ পছন্দ করুন: আপনার পছন্দের ভাষা এবং কণ্ঠটি নির্বাচন করুন।
  • সাবমিট করুন: সব ঠিক থাকলে 'Submit' বাটনে ক্লিক করলেই আপনার AI ভিডিও তৈরি হয়ে যাবে।

৪. HeyGen-এর প্যাকেজ এবং খরচ (Pricing)

  • Free $0 ১টি ক্রেডিট (১ মিনিটের ভিডিও), ১টি কাস্টম অবতার।
  • Creator ~$২৪ মাসে ১৫টি ক্রেডিট, কোনো ওয়াটারমার্ক থাকবে না, দ্রুত রেন্ডারিং।
  • Team ~$৩০ (প্রতি সিট) টিমে কাজ করার সুবিধা এবং ৪K ভিডিও এক্সপোর্ট।

৫. ব্যবহারের ক্ষেত্র

  • মার্কেটিং ও বিজ্ঞাপন: সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য দ্রুত প্রমোশনাল ভিডিও তৈরি করতে।
  • শিক্ষা ও ট্রেনিং: টিউটোরিয়াল বা ই-লার্নিং ভিডিও বানাতে।
  • কর্পোরেট মেসেজ: কোম্পানির অভ্যন্তরীণ কোনো ঘোষণা বা প্রেজেন্টেশন দিতে।

Kaiber AI: স্টাইলিশ এনিমেটেড এবং মিউজিক ভিডিওর জন্য জনপ্রিয়

Kaiber AI হলো একটি আধুনিক জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম, যা মূলত টেক্সট (Text), ছবি (Image) বা অডিও (Audio) থেকে চমৎকার সব অ্যানিমেটেড ভিডিও এবং ভিজ্যুয়াল স্টোরি তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। এটি মিউজিশিয়ান, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং শিল্পীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়, কারণ এটি দিয়ে খুব সহজেই মিউজিক ভিডিও বা ট্রিপি (trippy) অ্যানিমেশন তৈরি করা যায়।

নিচে Kaiber AI সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:

১. মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ (Key Features)

  • Text-to-Video: আপনি যা কল্পনা করছেন তা লিখে দিলে এআই সেই অনুযায়ী ভিডিও তৈরি করে দেবে।
  • Image-to-Video (Animation): আপনার কাছে থাকা যেকোনো স্থির চিত্রকে (Static Image) এটি চলন্ত অ্যানিমেশনে রূপান্তর করতে পারে।
  • Video-to-Video (Transform): একটি সাধারণ ভিডিও আপলোড করে সেটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন স্টাইলে (যেমন: এনিমে, অয়েল পেইন্টিং বা স্কেচ) রূপান্তর করা যায়।
  • Audioreactivity: এটি এই প্ল্যাটফর্মের অন্যতম সেরা ফিচার। আপনি কোনো মিউজিক ফাইল আপলোড করলে, গানের বিটের সাথে মিল রেখে ভিডিওর দৃশ্যগুলো পরিবর্তিত হবে।
  • Storyboard: ভিডিওর কাহিনী বা ধাপে ধাপে দৃশ্য সাজানোর জন্য এতে স্টোরিবোর্ড তৈরির সুবিধা রয়েছে।

২. কিভাবে ব্যবহার করবেন?

Kaiber ব্যবহার করা বেশ সহজ। প্রথমে Kaiber.ai এ গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন। আপনি কি দিয়ে ভিডিও শুরু করতে চান (ছবি, ভিডিও নাকি অডিও) তা নির্বাচন করুন। আপনার ভিডিওটি দেখতে কেমন হবে তার একটি বর্ণনা (Prompt) লিখুন এবং পছন্দের আর্ট স্টাইল বেছে নিন। ভিডিওর দৈর্ঘ্য (Duration), আস্পেক্ট রেশিও (যেমন ইউটিউবের জন্য ১৬:৯ বা টিকটকের জন্য ৯:১৬) এবং ক্যামেরার মুভমেন্ট সেট করুন। সব ঠিক থাকলে 'Generate' বাটনে ক্লিক করুন। কিছুক্ষণ পর আপনার ভিডিও তৈরি হয়ে যাবে।

৩. সাবস্ক্রিপশন ও মূল্য (Pricing - ২০২৬ অনুযায়ী)

  • Explorer (বেসিক): প্রতি মাসে প্রায় $৫ (৩০০ ক্রেডিট)। ছোটখাটো কাজের জন্য উপযুক্ত।
  • Pro (প্রফেশনাল): প্রতি মাসে $১৫ বা বার্ষিক নিলে মাসে $১০। এতে ১২,০০০ ক্রেডিট বার্ষিক পাওয়া যায় এবং হাই-রেজোলিউশন (4K) ভিডিও সাপোর্ট করে।
  • Artist: যারা অনেক বেশি কন্টেন্ট তৈরি করেন তাদের জন্য $২৫/মাস বা তার বেশি।

৪. কিছু সীমাবদ্ধতা

ফ্রি ট্রায়ালে বা নির্দিষ্ট কিছু প্ল্যানে ভিডিওতে তাদের লোগো (Watermark) থাকে। মানুষের খুব সূক্ষ্ম অঙ্গভঙ্গি বা নির্দিষ্ট কোনো জটিল কাজ (যেমন যুদ্ধ করা বা দৌড়ানো) নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা অনেক সময় কঠিন হতে পারে।

Pictory: ব্লগ পোস্ট বা আর্টিকেলকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিওতে রূপান্তর

Pictory হলো একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় AI-চালিত ভিডিও এডিটিং টুল, যা মূলত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, মার্কেটার এবং ইউটিউবারদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এটি ব্যবহার করার জন্য আপনাকে পেশাদার ভিডিও এডিটর হতে হবে না।

নিচে Pictory-এর মূল কাজ, সুবিধা এবং এর ফিচারগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. Pictory-এর প্রধান ফিচারসমূহ (Key Features)

  • Script to Video: আপনার কাছে যদি একটি স্ক্রিপ্ট বা টেক্সট থাকে, তবে সেটি এখানে পেস্ট করলে AI স্বয়ংক্রিয়াভাবে প্রাসঙ্গিক স্টক ফুটেজ, মিউজিক এবং সাবটাইটেল যোগ করে একটি পূর্ণাঙ্গ ভিডিও তৈরি করে দেবে।
  • Article to Video: কোনো ব্লগ পোস্ট বা আর্টিকেলের লিঙ্ক দিলে Pictory সেই লেখা থেকে সারসংক্ষেপ (Summary) তৈরি করে এবং তার ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করে।
  • Edit Video using Text: এটি একটি জাদুকরী ফিচার। আপনি একটি বড় ভিডিও (যেমন: জুম মিটিং বা পডকাস্ট) আপলোড করলে এটি সেটির ট্রান্সক্রিপ্ট (Transcript) তৈরি করবে। আপনি স্ক্রিপ্ট থেকে কোনো বাক্য মুছে দিলে ভিডিও থেকেও সেই অংশটি অটোমেটিক ডিলিট হয়ে যাবে।
  • Visuals to Video: আপনার কাছে থাকা ছবি বা ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপ সাজিয়ে একটি প্রফেশনাল স্লাইডশো বা প্রোমো ভিডিও তৈরি করা যায়।

২. বিশেষ সুবিধাসমূহ

  • অটোমেটিক সাবটাইটেল: এটি ভিডিওর কথা শুনে স্বয়ংক্রিয়াভাবে সঠিক সাবটাইটেল যোগ করে, যা সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিওর জন্য খুব জরুরি।
  • বিশাল স্টক লাইব্রেরি: এদের কাছে লক্ষ লক্ষ প্রিমিয়াম স্টক ভিডিও ক্লিপ এবং মিউজিক ট্র্যাক রয়েছে (Storyblocks-এর সাথে ইন্টিগ্রেশন আছে), তাই কপিরাইট নিয়ে চিন্তা করতে হয় না।
  • AI ভয়েসওভার (Voiceover): আপনার টেক্সটকে ভিডিওতে রূপান্তর করার পর আপনি চাইলে AI ভয়েস ব্যবহার করতে পারেন অথবা নিজের রেকর্ড করা ভয়েসও আপলোড করতে পারেন।
  • অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দেওয়া: ভিডিও থেকে 'uh', 'um' এর মতো শব্দগুলো এটি অটোমেটিক শনাক্ত করে রিমুভ করতে পারে।

৩. কাদের জন্য এটি সবচেয়ে উপযোগী?

  • ইউটিউবার: যারা ফেসলেস (Faceless) চ্যানেল চালাতে চান।
  • ব্লগার: যারা তাদের আর্টিকেলকে ভিডিওতে রূপান্তর করে রিচ বাড়াতে চান।
  • কর্পোরেট ট্রেইনার: দ্রুত ট্রেইনিং ভিডিও তৈরি করার জন্য।
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটার: ইনস্টাগ্রাম রিলস বা টিকটক ভিডিওর জন্য।

৪. দাম ও সাবস্ক্রিপশন (Pricing)

Pictory একটি ফ্রি টায়াল (Free Trial) অফার করে, যেখানে আপনি ৩টি ভিডিও (প্রতিটি ১০ মিনিট পর্যন্ত) তৈরি করতে পারবেন। তবে প্রফেশনাল কাজের জন্য তাদের পেইড প্ল্যান নিতে হয়:
  • Standard: ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য।
  • Premium: প্রফেশনাল ক্রিয়েটরদের জন্য (সবচেয়ে জনপ্রিয়)।
  • Teams: বড় টিমের জন্য যেখানে একাধিক ব্যক্তি কাজ করবে।

৫. কিছু সীমাবদ্ধতা 

এটি AI দিয়ে তৈরি হয় বলে অনেক সময় খুব জটিল বা একদম ইউনিক সিনেমাটিক এডিটিং এতে সম্ভব নয়। এছাড়া এটি ইংরেজিতে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে ট্রান্সক্রিপশন বা ভয়েসওভার এখনো ততোটা উন্নত নয়।

InVideo AI: দ্রুত স্ক্রিপ্ট রাইটিং এবং প্রোডাকশন-রেডি ভিডিও মেকার

InVideo AI বর্তমান সময়ের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন ভিডিও তৈরির প্ল্যাটফর্ম। এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে আপনি কোনো প্রফেশনাল এডিটিং স্কিল ছাড়াই শুধু টেক্সট কমান্ড (Prompt) দিয়ে হাই-কোয়ালিটি ভিডিও তৈরি করতে পারেন।

নিচে InVideo AI-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য, কাজ করার পদ্ধতি এবং প্যাকেজগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

১. প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ (Key Features)

  • Text-to-Video: আপনি যা লিখে দেবেন, AI সেই অনুযায়ী স্ক্রিপ্ট লিখে, স্টক ফুটেজ খুঁজে এবং ভয়েসওভার যুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ভিডিও তৈরি করে দেবে।
  • AI Script Generator: আপনার দেওয়া টপিকের ওপর ভিত্তি করে এটি চমৎকার স্ক্রিপ্ট তৈরি করতে পারে।
  • AI Voiceovers: মানুষের মতো স্বাভাবিক কণ্ঠস্বরে ভয়েসওভার যোগ করা যায়। এখানে বিভিন্ন ভাষা এবং উচ্চারণের (Accent) অপশন রয়েছে।
  • Huge Media Library: এতে ১৬ মিলিয়নেরও বেশি স্টক ইমেজ এবং ভিডিও ফুটেজ (iStock, Shutterstock ইত্যাদি) ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
  • Real-time Editing: ভিডিও জেনারেট হওয়ার পর আপনি চাইলে সাধারণ কমান্ড লিখে ("Make it funny" বা "Change the background music") ভিডিওটি পরিবর্তন করতে পারেন।

২. এটি যেভাবে কাজ করে (Step-by-Step Guide)

প্রথমে InVideo AI ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার জিমেইল বা অ্যাপল আইডি দিয়ে লগইন করুন। আপনি কী ধরনের ভিডিও চান তার একটি বিস্তারিত বিবরণ দিন। যেমন: "Create a 1-minute YouTube short about the history of Bitcoin in a professional tone." কার জন্য এবং কোন প্ল্যাটফর্মের (YouTube, TikTok বা Instagram) জন্য তা সিলেক্ট করুন। 'Generate' বাটনে ক্লিক করলে AI কয়েক মিনিটের মধ্যে আপনাকে ভিডিও তৈরি করে দেবে। ভিডিওর কোনো অংশ পছন্দ না হলে ম্যানুয়ালি বা চ্যাট বক্সের মাধ্যমে এডিট করে 'Export' বাটনে ক্লিক করে ডাউনলোড করে নিন।

৩. প্যাকেজ ও মূল্য তালিকা (Pricing Plans - 2026)

  • Free $0 ওয়াটারমার্ক সহ ভিডিও, প্রতি সপ্তাহে ১০ মিনিট জেনারেট করার সুযোগ।
  • Plus $25 - $35 ওয়াটারমার্ক থাকবে না, মাসে ৫০ মিনিট জেনারেট, ১০০ GB স্টোরেজ।
  • Max $48 - $60 মাসে ২০০ মিনিট জেনারেট, ৪০০ GB স্টোরেজ, ৫টি ভয়েস ক্লোনিং।
  • Team $899+ বড় এজেন্সি বা টিমের জন্য, বিশাল স্টোরেজ এবং আনলিমিটেড সুবিধা।

৪. সুবিধা ও অসুবিধা

সুবিধা: সময় অনেক সাশ্রয় করে, ভিডিও এডিটিং না জানলেও চলে এবং সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য দ্রুত কন্টেন্ট তৈরি করা যায়।

অসুবিধা: ফ্রি প্ল্যানে ভিডিওতে ওয়াটারমার্ক থাকে এবং মাঝে মাঝে এআই-এর স্টক ফুটেজ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম ত্রুটি থাকতে পারে।

Steve AI: সোশ্যাল মিডিয়া এবং এনিমেশন ভিডিওর অল ইন ওয়ান সমাধান 

Steve AI হলো একটি এআই-চালিত ভিডিও মেকিং প্ল্যাটফর্ম, যা মূলত খুব দ্রুত এবং সহজে টেক্সট বা স্ক্রিপ্ট থেকে ভিডিও তৈরি করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি জনপ্রিয় ভিডিও এডিটিং টুল 'Animaker'-এর নির্মাতাদের একটি উদ্যোগ।

নিচে Steve AI সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:

১. প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ (Key Features)

  • টেক্সট-টু-ভিডিও (Text to Video): আপনি শুধু একটি স্ক্রিপ্ট লিখে দিলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাসঙ্গিক দৃশ্য (Scenes), ছবি এবং ক্লিপ যুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ভিডিও তৈরি করে দেয়।
  • ব্লগ-টু-ভিডিও (Blog to Video): কোনো ব্লগ পোস্ট বা আর্টিকেলের লিঙ্ক দিলে এটি সেই লেখা থেকে সারসংক্ষেপ তৈরি করে ভিডিওতে রূপান্তর করতে পারে।
  • অ্যানিমেশন এবং লাইভ-অ্যাকশন: এটি দিয়ে আপনি কার্টুন স্টাইল অ্যানিমেশন ভিডিও এবং বাস্তবসম্মত স্টক ফুটেজ সমৃদ্ধ লাইভ-অ্যাকশন—উভয় ধরনের ভিডিও তৈরি করতে পারেন।
  • এআই ভয়েসওভার (AI Voiceover): ভিডিওর জন্য আলাদা করে রেকর্ড করার প্রয়োজন নেই; এটি স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী বিভিন্ন ভাষায় এবং টোনে মানুষের মতো ভয়েসওভার দিতে সক্ষম।
  • অ্যাভাটার ও ক্যারেক্টার: এখানে ১০০-এর বেশি অ্যানিমেটেড ক্যারেক্টার রয়েছে যা দিয়ে শিক্ষামূলক বা প্রচারণামূলক ভিডিও তৈরি করা সহজ।

২। Steve AI  কাদের জন্য এটি উপযোগী?

  • মার্কেটার: সোশ্যাল মিডিয়া বা বিজ্ঞাপনের জন্য দ্রুত ভিডিও তৈরি করতে।
  • এডুকেটর বা শিক্ষক: জটিল বিষয়গুলোকে অ্যানিমেশনের মাধ্যমে সহজে বোঝাতে।
  • ইউটিউবার: যারা ফেসলেস (Faceless) চ্যানেল চালাতে চান তাদের জন্য এটি দারুণ কার্যকর।
  • ছোট ব্যবসায়ী: বড় বাজেট ছাড়াই প্রফেশনাল মানের প্রোমো ভিডিও তৈরির জন্য।

৩. প্যাকেজ ও মূল্য (Pricing - ২০২৬ অনুযায়ী আনুমানিক)

  • ফ্রি (Free): ফ্রিতে ভিডিও তৈরি করা যায় তবে সাধারণত ভিডিওতে জলছাপ (Watermark) থাকে এবং ডাউনলোডের সীমাবদ্ধতা থাকে।
  • বেসিক (Basic): প্রতি মাসে প্রায় $১৫ থেকে শুরু, যেখানে ৭২০p রেজোলিউশন পাওয়া যায়।
  • স্টার্টার (Starter): প্রতি মাসে প্রায় $৪৫, যেখানে ১০৮০p রেজোলিউশন এবং বেশি সংখ্যক ভিডিও ডাউনলোডের সুযোগ থাকে।
  • প্রো (Pro): প্রতি মাসে প্রায় $৬০, যা প্রফেশনালদের জন্য ২K রেজোলিউশন এবং আনলিমিটেড ফিচারের সুবিধা দেয়।

৪. সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা

  • ভিডিও এডিটিং স্কিল লাগে না। খুব বেশি কাস্টম এডিটিং করার সুযোগ সীমিত।
  • অনেক দ্রুত ভিডিও আউটপুট পাওয়া যায়। ফ্রি ভার্সনে ভিডিওর মান ও ফিচারে সীমাবদ্ধতা থাকে।
  • বিশাল স্টক লাইব্রেরি ও মিউজিক কালেকশন। কিছু ক্ষেত্রে ভয়েসওভার কিছুটা যান্ত্রিক শোনাতে পারে।

Fliki: ভয়েসওভারসহ টেক্সট থেকে ভিডিও তৈরির সহজ মাধ্যম

Fliki হলো একটি আধুনিক AI-চালিত প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে আপনি টেক্সট বা লেখা থেকে খুব সহজে ভিডিও এবং অডিও (Voiceover) তৈরি করতে পারেন। এটি বিশেষ করে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, মার্কেটার এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।

নিচে Fliki সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:

১. Fliki-র প্রধান কাজগুলো কী কী?

  • Text to Video: আপনি আপনার ব্লগের লিঙ্ক বা কোনো স্ক্রিপ্ট লিখে দিলে Fliki স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপযুক্ত স্টক ফুটেজ, ছবি এবং মিউজিক ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করে দেয়।
  • Text to Speech: এটি আপনার লেখাকে মানুষের মতো স্বাভাবিক কণ্ঠস্বরে (Human-like AI voice) রূপান্তর করতে পারে।
  • Idea to Video: শুধু একটি আইডিয়া বা প্রম্পট লিখলে এটি সম্পূর্ণ স্ক্রিপ্টসহ ভিডিও তৈরি করে।
  • AI Avatar: ফ্লিকিতে এখন এআই অবতার ব্যবহার করে কথা বলা ভিডিও তৈরি করা যায়।

২. মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ (Key Features)

বিশাল ভয়েস লাইব্রেরিঃ এখানে ৮৫টিরও বেশি ভাষায় ২০০০-এর বেশি এআই ভয়েস রয়েছে। এর মধ্যে বাংলা (Bangladesh & India) ভাষাও অন্তর্ভুক্ত।

স্টক মিডিয়াঃ এদের বিশাল লাইব্রেরিতে লক্ষ লক্ষ কপিরাইট-মুক্ত ছবি, ভিডিও ক্লিপ এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক রয়েছে।

সহজ ইন্টারফেসঃ ভিডিও এডিটিংয়ের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই এটি ব্যবহার করা যায়। অনেকটা প্রেজেন্টেশন স্লাইড তৈরি করার মতোই সহজ।

ব্লগ-টু-ভিডিওঃ আপনি আপনার ব্লগের ইউআরএল (URL) দিলে এটি সেই লেখাটি পড়ে স্বয়ংক্রিয়াভাবে একটি সারাংশ তৈরি করে ভিডিও বানিয়ে দেয়।

৩. কারা এটি ব্যবহার করেন?

  • ইউটিউবার: যারা ফেসলেস (Faceless) ইউটিউব চ্যানেল চালান।
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটার: ইনস্টাগ্রাম রিলস, টিকটক বা ফেসবুক ভিডিও তৈরির জন্য।
  • শিক্ষক ও ট্রেইনার: শিক্ষামূলক টিউটোরিয়াল বা প্রেজেন্টেশন তৈরির জন্য।
  • পডকাস্টার: লেখা থেকে অডিও পডকাস্ট তৈরি করতে।

৪. দাম বা সাবস্ক্রিপশন (Pricing)

  • Free: আপনি বিনামূল্যে এটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন (তবে ভিডিওতে ওয়াটারমার্ক থাকবে এবং ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা থাকবে)।
  • Standard: যারা নিয়মিত ভিডিও তৈরি করতে চান তাদের জন্য।
  • Premium: পেশাদার এবং বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য যেখানে এআই অবতার এবং উন্নত ফিচার পাওয়া যায়।

৫. সুবিধা ও অসুবিধা

খুব দ্রুত ভিডিও তৈরি করা যায়। তবে ফ্রি ভার্সনে অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। বাংলা ভাষা সাপোর্ট করে। প্রোফেশনাল এডিটিং সফটওয়্যারের মতো সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ নেই। ভিডিওর সাথে অটো-ক্যাপশন যোগ হয়। কিছু ক্ষেত্রে এআই ভয়েস কিছুটা যান্ত্রিক মনে হতে পারে।

শেষ কথা

পরিশেষে বলা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ভিডিও তৈরির জগতকে অভাবনীয়ভাবে সহজ করে দিয়েছে। যেখানে আগে একটি ভিডিও তৈরি করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় এবং কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন হতো, এখন তা মাত্র কয়েক মিনিটেই  সম্ভব হচ্ছে। কন্টেন্ট ক্রিয়েশন, মার্কেটিং কিংবা কর্পোরেট প্রেজেন্টেশন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই ১০টি টুল ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। আপনার প্রয়োজন এবং কাজের ধরন অনুযায়ী সঠিক টুলটি বেছে নিয়ে আপনিও আপনার সৃজনশীলতাকে পৌঁছে দিতে পারেন এক নতুন উচ্চতায়।

 ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, টেক্সট-টু-ভিডিও জেনারেটরগুলো কেবল সময় বাঁচানোর মাধ্যম নয়, বরং এটি সৃজনশীলতার এক নতুন দিগন্ত। বর্তমানে Runway Gen-3 Alpha এবং Luma AI তাদের ভিডিওর গুণমান এবং বাস্তবধর্মী ভিজ্যুয়ালের মাধ্যমে সবাইকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তবে আপনি যদি একজন সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হন, তবে InVideo AI বা Pictory আপনার জন্য সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে কারণ এগুলো ভিডিও তৈরির প্রক্রিয়াকে অনেক বেশি অটোমেটেড করে দেয়। এআই টুলগুলো প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে, তাই এই প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলাই হবে স্মার্ট কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের মূল লক্ষ্য।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আইটি শহিদ ওয়ার্ল্ড এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এই ওয়েবসাইট Cookies ব্যবহার করে আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করার জন্য। ওয়েবসাইট ব্যবহার চালিয়ে গেলে আপনি আমাদের Privacy Policy-তে সম্মতি দিচ্ছেন।