অল্প সময়ে ঘরে বসে রূপচর্চা
ব্যস্ত সময়ের মাঝেও ত্বককে সজীব রাখতে চান? জানুন অল্প সময়ে ঘরে বসে রূপচর্চার কার্যকরী টিপস। মাত্র ১০-১৫ মিনিটে প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের যত্ন নিন এবং পান উজ্জ্বল ও দাগহীন ত্বক।
পেজ সূচীপত্রঃ অল্প সময়ে ঘরে বসে রূপচর্চা: উজ্জ্বল ও সুস্থ ত্বকের পূর্ণাঙ্গ গাইড
- ত্বকের ধরন চিনে সঠিক রূপচর্চা
- ১০-১৫ মিনিটের ডেইলি স্কিন কেয়ারঃ ব্যস্ত জীবনে ঘরোয়া রূপচর্চা
- সাপ্তাহিক ফেসপ্যাকঃ উজ্জ্বলতার চাবিকাঠি ও ত্বকের ডিটক্স
- চোখের নিচের বিশেষ যত্নঃ কালো দাগ ও ফোলা ভাব দূর করার উপায়
- প্রাকৃতিক ফেস স্ক্রাবঃ ঘরোয়া পদ্ধতিতে স্ক্রাবিং
- ঘরোয়া টোনারঃ স্ক্রাবিংয়ের পর ত্বকের পিএইচ (pH) ব্যালেন্স ঠিক রাখার কৌশল
- চুলের যত্নে ঘরোয়া প্রতকারঃ চুল পড়া রোধ ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির সমাধান
- চুল ধোয়ার সঠিক পদ্ধতিঃ শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক ধাপ
- হাত ও নখের যত্নঃ আকর্ষণীয় হাত ও মজবুত নখ পাওয়ার পূর্ণাঙ্গ গাইড
- সুস্থ ত্বকের জন্য লাইফস্টাইল টিপস
- শেষ কথা
ত্বকের ধরন চিনে সঠিক রূপচর্চা
তৈলাক্ত ত্বক
শুষ্ক ত্বক
মিশ্র ত্বক
স্বাভাবিক ত্বক
সংবেদনশীল ত্বক বা সেনসেটিভ স্কিন
ঘরে বসে ত্বকের ধরন চেনার সহজ উপায় (টিস্যু পেপার টেস্ট) ঃ
- যদি টিস্যুতে সব জায়গায় তেলের দাগ লাগে— তৈলাক্ত ত্বক।
- যদি শুধু নাক ও কপালের অংশে তেলের দাগ লাগে— মিশ্র ত্বক।
- যদি টিস্যুতে কোনো তেল না লাগে কিন্তু মুখ টানটান লাগে— শুষ্ক ত্বক।
- যদি টিস্যুতে কোনো তেলের চিহ্ন না থাকে এবং ত্বক স্বাভাবিক লাগে— স্বাভাবিক ত্বক।
১০-১৫ মিনিটের ডেইলি স্কিন কেয়ার: ব্যস্ত জীবনে ঘরোয়া রূপচর্চা
ক্লিনজিং (৩ মিনিট)
টোনিং (২ মিনিট)
ময়েশ্চারাইজিং (২ মিনিট)
সানস্ক্রিন বা নাইট ক্রিম (২ মিনিট)
চোখের যত্ন ও ঠোঁট (১মিনিট)
সাপ্তাহিক ফেসপ্যাক: উজ্জ্বলতার চাবিকাঠি ও ত্বকের ডিটক্স
নিচে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কার্যকর ৪টি ফেসপ্যাক তৈরির নিয়ম ও উপকারিতা তুলে ধরা হলোঃ
১. ইনস্ট্যান্ট গ্লো প্যাক (বেসন, হলুদ ও টক দই)
উপকরণঃ বেসন ২ টেবিল চামচ (এটি ত্বক পরিষ্কার করে এবং মরা চামড়া দূর করে), টক দই ১ টেবিল চামচ (এতে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বককে নরম ও উজ্জ্বল করে), হলুদ গুঁড়ো এক চিমটি (হলুদের অ্যান্টি-সেপটিক গুণ ত্বকের দাগ দূর করে), মধু আধা চা চামচ (ত্বককে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে)।
ব্যবহার বিধিঃ একটি পরিষ্কার বাটিতে সব উপকরণ নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে একটি ঘন ও মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। মুখ ও গলা ভালো করে ধুয়ে নিয়ে এই প্যাকটি সমানভাবে লাগান। ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন যতক্ষণ না এটি আধা-শুকনো হচ্ছে। হালকা জল দিয়ে মুখ ভেজাবেন এবং আঙুলের ডগা দিয়ে ২ মিনিট আলতো করে ম্যাসাজ করবেন। এরপর ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
২. অ্যান্টি-একনি প্যাক (নিম ও মুলতানি মাটি)
যাঁদের ত্বকে ঘনঘন ব্রণ হয় এবং ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত, তাঁদের জন্য এই প্যাকটি জাদুর মতো কাজ করে। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নেয় এবং ব্রণের জীবাণু ধ্বংস করে।
উপকরণঃ নিম পাতা বাটা বা গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ (নিমে আছে শক্তিশালী অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা ব্রণের জীবাণু মারে), মুলতানি মাটি ১ টেবিল চামচ (এটি লোমকূপের গভীর থেকে তেল ও ময়লা পরিষ্কার করে), গোলাপ জল পরিমাণমতো (পেস্ট তৈরি করার জন্য), লেবুর রস (ঐচ্ছিক) ৩-৪ ফোঁটা (দাগ দূর করতে সাহায্য করে)।
ব্যবহার বিধিঃ একটি পাত্রে নিম ও মুলতানি মাটি মিশিয়ে নিন। এতে পরিমাণমতো গোলাপ জল দিয়ে একটি মসৃণ প্যাক তৈরি করুন। পরিষ্কার মুখে বিশেষ করে ব্রণের ওপর এবং তৈলাক্ত অংশে ভালো করে লাগিয়ে নিন। প্যাকটি মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রাখুন। পুরোপুরি শুকিয়ে টানটান হওয়ার আগেই ধুয়ে ফেলা ভালো। ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে আলতো করে মুছে নিন।
- নিম সরাসরি ব্রণের ব্যাকটেরিয়ার ওপর কাজ করে এবং নতুন ব্রণ হওয়া রোধ করে।
- মুলতানি মাটি ত্বককে দীর্ঘক্ষণ ম্যাট রাখে এবং বড় হয়ে যাওয়া লোমকূপ সংকুচিত করে।
- এই প্যাকটি ব্রণের কারণে হওয়া ত্বকের লালচে ভাব ও জ্বালাপোড়া কমায়।
৩. ডিপ হাইড্রেটিং প্যাক (মধু ও ওটস)
শুষ্ক ও প্রাণহীন ত্বকের জন্য ডিপ হাইড্রেটিং প্যাক (মধু ও ওটস) একটি জাদুর মতো কাজ করে। যাদের ত্বক সব সময় খসখসে থাকে বা শীতকালে চামড়া ওঠে, তাঁদের জন্য এই প্যাকটি সেরা। এটি ত্বককে গভীর থেকে আর্দ্রতা প্রদান করে এবং একটি সুস্থ ভাব ফিরিয়ে আনে।
উপকরণঃ ওটস গুঁড়ো ২ টেবিল চামচ (ওটস ত্বককে শান্ত রাখে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখে), খাঁটি মধু ১ টেবিল চামচ (মধু প্রাকৃতিক হিউমেক্ট্যান্ট, যা ত্বককে দীর্ঘক্ষণ নরম রাখে), কাঁচা দুধ বা দই ১ টেবিল চামচ (দুধের ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বককে উজ্জ্বল ও মসৃণ করে), অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল (ঐচ্ছিক) কয়েক ফোঁটা (যদি ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়)।
ব্যবহার বিধিঃ প্রথমে ওটস মিক্সারে গুঁড়ো করে নিন। এবার একটি বাটিতে ওটস, মধু এবং দুধ মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন। মিশ্রণটি ৫ মিনিট রেখে দিন যাতে ওটস ভিজে নরম হয়। মুখ ও গলায় প্যাকটি আলতো করে লাগিয়ে নিন। ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। যখন প্যাকটি সামান্য শুকিয়ে আসবে, তখন বুঝতে হবে এটি কাজ করছে। হালকা গরম জল (কুসুম গরম) দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ধোয়ার সময় গোল গোল করে ঘষে নিলে মরা চামড়াও পরিষ্কার হয়ে যাবে।
৪. অ্যান্টি-এজিং প্যাক (পাকা পেঁপে ও লেবুর রস
বয়সের ছাপ লুকানো এবং ত্বকের টানটান ভাব বজায় রাখার জন্য এটি একটি প্রাকৃতিক কোলাজেন বুস্টার হিসেবে কাজ করে। ৩০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য এই প্যাকটি নিয়মিত ব্যবহার করা আদর্শ।
উপকরণঃ পাকা পেঁপে ২-৩টি ছোট কিউব (ভালভাবে চটকানো), লেবুর রস ৫-৬ ফোঁটা (ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ, যা উজ্জ্বলতা বাড়ায়), মধু ১ চা চামচ (ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে)।
ব্যবহার বিধিঃ পাকা পেঁপের টুকরোগুলো একটি কাঁটাচামচ দিয়ে ভাল করে চটকে নিন যেন কোনো দলা না থাকে। এবার তাতে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। মুখ ও গলায় প্যাকটি ওপরের দিকে স্ট্রোক করে লাগিয়ে নিন। চোখের চারপাশের পাতলা চামড়ায় সাবধানে লাগাবেন। ২০ মিনিট রেখে দিন। পেঁপে শুকিয়ে চামড়া কিছুটা টানটান অনুভব হবে। প্রথমে হালকা জল দিয়ে প্যাকটি নরম করে নিন, তারপর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
কেন এটি কার্যকর?
ফেসপ্যাক ব্যবহারের সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা
ফেসপ্যাক থেকে শতভাগ ফল পেতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরিঃ
- ফেসপ্যাক লাগানোর আগে অবশ্যই ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। ময়লা মুখে প্যাক লাগালে হিতে বিপরীত হতে পারে।
- নতুন কোনো উপাদান ব্যবহারের আগে কানের পেছনে লাগিয়ে ৫ মিনিট দেখে নিন জ্বালাপোড়া করে কি না।
- ফেসপ্যাক কখনো খুব বেশি সময় (৩০ মিনিটের বেশি) রাখা ঠিক নয়। এতে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
- প্যাক ধোয়ার পর অবশ্যই ত্বকে ময়েশ্চারাইজার বা সিরাম লাগাতে হবে।
চোখের নিচের বিশেষ যত্ন: কালো দাগ ও ফোলা ভাব দূর করার উপায়
চোখের নিচের কালো দাগ এবং ফোলা ভাব বর্তমান সময়ের একটি সাধারণ সমস্যা। দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন আমাদের চেহারায় ক্লান্তির ছাপ ফেলে দেয়। চোখের চারপাশের ত্বক অত্যন্ত পাতলা ও সংবেদনশীল হওয়ায় খুব দ্রুত এখানে সমস্যার সৃষ্টি হয়। তবে চিন্তার কিছু নেই, ঘরোয়া উপায়ে খুব অল্প সময়েই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
১. শসা ও আলুর জাদুকরী ব্যবহার
শসা এবং আলু চোখের যত্নে সবথেকে প্রাচীন ও কার্যকর উপাদান। শসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং পানি, যা ত্বককে হাইড্রেট করে। অন্যদিকে, আলুর ব্লিচিং এজেন্ট কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে।
২. ব্যবহৃত টি-ব্যাগ
গ্রিন টি বা ব্ল্যাক টি-তে থাকে ক্যাফেইন এবং ট্যানিন, যা চোখের নিচের রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করে ফোলা ভাব দ্রুত কমিয়ে আনে।
৩. ঠান্ডা দুধের কম্প্রেস
দুধে রয়েছে ল্যাকটিক অ্যাসিড, যা ত্বককে কোমল করার পাশাপাশি পিগমেন্টেশন কমাতে সাহায্য করে। ঠান্ডা দুধ চোখের নিচের ফোলা ভাব কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।
৪. অ্যালোভেরা জেল ও ভিটামিন ই অয়েল
অ্যালোভেরা জেল ত্বকের প্রদাহ কমায় এবং আর্দ্রতা ধরে রাখে। ভিটামিন ই অয়েল ডার্ক সার্কেল দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে।
৫. আমন্ড অয়েল ও মধুর মিশ্রণ
শুষ্ক ত্বকের কারণেও অনেক সময় চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে। আমন্ড অয়েলে থাকা ভিটামিন কে রক্ত চলাচল সচল রাখে।
শুধুমাত্র প্যাক ব্যবহার করলেই হবে না, ভেতর থেকে সুস্থ থাকাটাও জরুরিঃ
- প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন ঘুমের প্রয়োজন। ঘুমের অভাবই ডার্ক সার্কেলের প্রধান কারণ।
- শরীর ডিহাইড্রেটেড হলে চোখের চারপাশ ফুলে যায়। তাই দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।
- অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে, যার ফলে চোখের নিচে ফোলা ভাব দেখা দেয়। খাবারে অতিরিক্ত লবণের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
- ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার বন্ধ করুন। নীল আলো চোখের চরম ক্ষতি করে।
চোখের ব্যায়াম ও ম্যাসাজঃ
চোখের চারপাশে রিং ফিঙ্গার দিয়ে আলতো করে ম্যাসাজ করলে লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ভালো হয়, যা ফোলা ভাব কমাতে সাহায্য করে। দিনে একবার দুই মিনিটের জন্য চোখের চারপাশ বৃত্তাকারে ম্যাসাজ করুন।
প্রাকৃতিক ফেস স্ক্রাব বা ঘরোয়া পদ্ধতিতে স্ক্রাবিং
৫টি কার্যকরী ঘরোয়া স্ক্রাব তৈরির পদ্ধতিঃ
১. কফি ও চিনির স্ক্রাব (সব ধরণের ত্বকের জন্য)
কফি ও চিনির স্ক্রাব হলো ঘরোয়া রূপচর্চার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বহুমুখী একটি উপায়। এটি ত্বকের ক্লান্তি দূর করে তাৎক্ষণিক সতেজতা ফিরিয়ে আনতে অতুলনীয়। কফির অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং চিনির এক্সফোলিয়েশন ক্ষমতা সব ধরনের ত্বকেই দারুণ কাজ করে।
উপকরণঃ কফি পাউডার ১ টেবিল চামচ (ইনস্ট্যান্ট কফি বা কফি বিন গুঁড়ো), চিনি ১ টেবিল চামচ (মিহি দানা হলে ভালো), নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল ১ টেবিল চামচ (ত্বককে আর্দ্র রাখতে), মধু (ঐচ্ছিক) আধা চা চামচ (অতিরিক্ত গ্লো পেতে)।
- একটি ছোট বাটিতে কফি, চিনি এবং তেল ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি যেন দানাদার থাকে, একেবারে তরল করবেন না।
- মুখ হালকা জল দিয়ে ভিজিয়ে নিয়ে সারা মুখে ও গলায় এই স্ক্রাবটি লাগান।
- ২-৩ মিনিট ধরে খুব আলতোভাবে আঙুল দিয়ে বৃত্তাকারে ম্যাসাজ করুন। বিশেষ করে নাকের দুই পাশ এবং থুতনির অংশে বেশি জোর দিন, যেখানে ব্ল্যাকহেডস বেশি থাকে।
- স্ক্রাব করার পর ৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর হালকা গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। শেষে ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে লোমকূপ বন্ধ করে দিন।
কেন এটি কার্যকর?
ক্যাফেইনঃ কফিতে থাকা ক্যাফেইন ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, যা ফোলা ভাব কমায় এবং ত্বককে টানটান করতে সাহায্য করে।
গভীর পরিচ্ছন্নতাঃ চিনির দানাগুলো ত্বকের উপরিভাগের জমে থাকা মৃত কোষ এবং ময়লা পুরোপুরি পরিষ্কার করে দেয়।
বিশেষ পরামর্শঃ
২. ওটস ও মধুর স্ক্রাব (শুষ্ক ও সংবেদনশীল ত্বকের জন্য)
শুষ্ক এবং সংবেদনশীল ত্বকের জন্য ওটস ও মধুর স্ক্রাব একটি আশীর্বাদস্বরূপ। শুষ্ক ত্বকে সাধারণ স্ক্রাব ব্যবহার করলে অনেক সময় চামড়া ফেটে যায় বা লালচে ভাব হয়, কিন্তু ওটস ত্বককে শান্ত রাখে এবং মধু গভীর আর্দ্রতা যোগায়।
উপকরণঃ ওটস (গুঁড়ো করা) ১ টেবিল চামচ, মধু ১ টেবিল চামচ (খাঁটি মধু হলে ভালো), ঈষদুষ্ণ জল বা দুধ সামান্য (পেস্ট তৈরির জন্য)।
- ওটস হালকা গুঁড়ো করে নিন (একেবারে পাউডার করবেন না, যেন সামান্য দানা থাকে)। এবার মধুর সাথে ওটস মিশিয়ে নিন। যদি মিশ্রণটি খুব বেশি ঘন মনে হয়, তবে কয়েক ফোঁটা কাঁচা দুধ বা হালকা গরম জল মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন।
- মুখে ও গলায় প্যাকটি আলতো করে লাগিয়ে ২-৩ মিনিট অপেক্ষা করুন যাতে ওটস নরম হয়ে ত্বকে কাজ শুরু করতে পারে।
- এবার আঙুলের ডগা দিয়ে খুব আলতোভাবে ২ মিনিট ম্যাসাজ করুন। ওটস ত্বকের মরা চামড়াগুলো আলতো করে সরিয়ে দেবে।
- ৫-১০ মিনিট পর হালকা গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন এবং শেষে একবার ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন।
কেন এটি সেরা?
৩. চালের গুঁড়ো ও লেবুর রস (তৈলাক্ত ত্বকের জন্য)
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য চালের গুঁড়ো ও লেবুর রসের স্ক্রাব অত্যন্ত কার্যকর। এটি ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল শুষে নেয় এবং ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস দূর করে ত্বককে সতেজ করে তোলে।
উপকরণঃ চালের গুড়া ১-২ টেবিল চামচ (এটি প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে)। লেবুর রস ১ চা চামচ (লেবুর ভিটামিন-সি ও সাইট্রিক অ্যাসিড তেল নিয়ন্ত্রণ করে এবং দাগ দূর করে)। গোলাপজল বা জল পরিমাণমতো (পেস্ট তৈরি করার জন্য)।
- মিশ্রণ তৈরিঃ একটি পাত্রে চালের গুঁড়ো ও লেবুর রস নিন। এতে সামান্য গোলাপজল মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন।
- মুখে লাগানোঃ পরিষ্কার মুখে এই প্যাকটি সমানভাবে লাগিয়ে নিন। চোখের চারপাশের নরম চামড়ায় লাগাবেন না।
- স্ক্রাবিংঃ ২-৩ মিনিট পর যখন প্যাকটি সামান্য শুকিয়ে আসবে, তখন হাতের আঙুল দিয়ে হালকা চাপে গোল গোল করে ঘষে স্ক্রাব করুন। চালের গুঁড়োর দানাগুলো লোমকূপের ভেতর থেকে ময়লা বের করে আনবে।
- অপেক্ষা ও ধোয়াঃ স্ক্রাব করা হলে আরও ৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
- চালের গুঁড়ো ত্বকের বাড়তি তেল শুষে নিয়ে ম্যাট ফিনিশ দেয়।
- লেবুর রস প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা ত্বকের রোদে পোড়া কালো ভাব দ্রুত দূর করে।
- এটি বড় হয়ে যাওয়া লোমকূপ পরিষ্কার ও সংকুচিত করতে সাহায্য করে।
৪. টমেটো ও চিনির স্ক্রাব (ইনস্ট্যান্ট গ্লো পেতে)
ইনস্ট্যান্ট গ্লো বা তাৎক্ষণিক উজ্জ্বলতা পেতে টমেটো ও চিনির স্ক্রাব একটি জাদুকরী ঘরোয়া উপায়। এটি একই সাথে এক্সফোলিয়েটর এবং প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসেবে কাজ করে।
- প্রথমে একটি টমেটো অর্ধেক করে কেটে নিন। এবার একটি প্লেটে চিনি ছড়িয়ে রাখুন।
- টমেটোর কাটা অংশটি চিনির ওপর চেপে ধরুন যাতে টমেটোর গায়ে চিনি লেগে যায়।
- এবার চিনিসহ টমেটোটি মুখে বৃত্তাকারে আলতোভাবে ঘষুন। বিশেষ করে নাক, কপাল এবং থুতনির অংশে ভালো করে ম্যাসাজ করুন।
- ৫-১০ মিনিট মুখে এভাবে রেখে দিন যাতে টমেটোর রস ত্বকের ভেতরে শোষিত হয়।
- চিনি গলে গেলে এবং রস শুকিয়ে এলে হালকা গরম জল বা ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
কেন এটি কাজ করে?
৫. মুসুর ডাল বাটা ও দুধ (উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে)
মুসুর ডাল বাটা এবং কাঁচা দুধের স্ক্রাব ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে এবং মরা চামড়া দূর করতে দারুণ কার্যকর। অল্প সময়ে ঘরে বসে রূপচর্চার জন্য এটি একটি আদর্শ প্যাক। নিচে এর প্রস্তুত প্রণালী ও ব্যবহার বিধি দেওয়া হলোঃ
উপকরণঃ মুসুর ডাল বাটা (অথবা মিহি গুঁড়ো) ২ টেবিল চামচ, কাঁচা দুধ পরিমাণমতো (পেস্ট তৈরির জন্য), মধু (ঐচ্ছিক) আধা চা চামচ (ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হলে)।
প্রস্তুত প্রণালীঃ প্রথমে মুসুর ডাল ৩-৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে মিহি করে বেটে নিন। (সময় বাঁচাতে ডাল শুকিয়ে গুঁড়ো করে সংরক্ষণ করতে পারেন)। একটি পরিষ্কার পাত্রে ডাল বাটার সাথে পরিমাণমতো কাঁচা দুধ মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন।
- প্রথমে পানি দিয়ে মুখ ভালো করে ধুয়ে নিন।
- এবার তৈরি করা প্যাকটি সারা মুখে এবং গলায় সমানভাবে লাগান। চোখের চারপাশ এড়িয়ে চলুন।
- ৫-১০ মিনিট পর প্যাকটি যখন আধা-শুকনো হয়ে আসবে, তখন সামান্য জল বা দুধ হাতে নিয়ে হালকা হাতে বৃত্তাকারে ম্যাসাজ বা স্ক্রাব করুন। এটি ব্ল্যাকহেডস এবং মরা চামড়া দূর করবে।
- ২-৩ মিনিট স্ক্রাব করার পর ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
উপকারিতাঃ
সতর্কতাঃ আপনার ত্বক যদি খুব সংবেদনশীল হয়, তবে ব্যবহারের আগে হাতে প্যাচ টেস্ট করে নিন। সপ্তাহে ২ দিন এই স্ক্রাবটি ব্যবহার করাই যথেষ্ট।
স্ক্রাবিং করার সঠিক নিয়ম ও সতর্কতাঃ
- স্ক্রাবিং প্রতিদিন করা উচিত নয়। স্বাভাবিক বা তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সপ্তাহে ২ বার এবং শুষ্ক বা সংবেদনশীল ত্বকের জন্য সপ্তাহে ১ বার যথেষ্ট।
- মুখে খুব জোরে ঘষবেন না, এতে ত্বকে সূক্ষ্ম ক্ষত তৈরি হতে পারে। সবসময় আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন।
- মুখে একটিভ ব্রণ বা ইনফেকশন থাকলে সেই জায়গায় স্ক্রাব করবেন না।
- স্ক্রাবিংয়ের পর ত্বকের লোমকূপ উন্মুক্ত থাকে, তাই অবশ্যই ভালো কোনো ময়েশ্চারাইজার বা সিরাম ব্যবহার করুন।
- নতুন কোনো স্ক্রাব ব্যবহারের আগে হাতের ত্বকে সামান্য লাগিয়ে পরীক্ষা করে নিন।
ঘরোয়া টোনার: স্ক্রাবিংয়ের পর ত্বকের পিএইচ (pH) ব্যালেন্স ঠিক রাখার কৌশল
১. গোলাপ জল ও গ্লিসারিন টোনার (সব ধরনের ত্বকের জন্য)
- প্রথমে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ভালো করে ধুয়ে মুছে নিন।
- মুখ থেকে কিছুটা দূরে বোতল ধরে সরাসরি মুখে স্প্রে করুন অথবা একটি তুলা দিয়ে আলতো করে সারা মুখে লাগিয়ে নিন।
- টোনারটি লাগানোর পর মোছার প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিকভাবে ত্বকে শুকিয়ে যেতে দিন।
- টোনার শুকিয়ে গেলে আপনার নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার বা সিরাম ব্যবহার করুন।
২. অ্যাপেল সিডার ভিনেগার টোনার (তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য)
- প্রথমে একটি ভালো ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে মুছে নিন।
- একটি পরিষ্কার তুলার বলে সামান্য টোনার নিয়ে মুখ ও গলায় আলতো করে লাগিয়ে নিন। বিশেষ করে যেখানে ব্রণ বা তেলের ভাব বেশি, সেখানে ভালো করে লাগান।
- এটি ধোয়ার প্রয়োজন নেই। ত্বকে স্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে যেতে দিন।
- টোনার শুকিয়ে গেলে একটি অয়েল-ফ্রি লাইট ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
৩. গ্রিন টি টোনার (অ্যান্টি-এজিং ও সতেজতার জন্য)
- মুখ ধোয়ার পর সরাসরি স্প্রে করুন অথবা তুলার সাহায্যে মুখে ও গলায় লাগিয়ে নিন।
- দিনে অন্তত দুইবার (সকালে ও রাতে) ব্যবহার করুন।
- ফ্রিজে রেখে ব্যবহার করলে এটি চোখের নিচের ফোলা ভাব কমাতেও সাহায্য করে।
কেন এটি অ্যান্টি-এজিংয়ের জন্য সেরা?
চুলের যত্নে ঘরোয়া প্রতিকার: চুল পড়া রোধ ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির সমাধান
চুল পড়া রোধে পেঁয়াজের রস
খুশকি দূর করতে টক দই ও লেবু
চুল সিল্কি ও উজ্জ্বল করতে ডিমের মাস্ক
নতুন চুল গজাতে মেথি ও কালোজিরা
চুলের রুক্ষতা কমাতে অ্যালোভেরা জেল
চুল ধোয়ার সঠিক পদ্ধতিঃ শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক ধাপ
চুল ধোয়ার বিষয়টি খুব সাধারণ মনে হলেও, অধিকাংশ মানুষই সঠিক পদ্ধতি না জানার কারণে অজান্তেই চুলের ক্ষতি করে ফেলেন। ভুলভাবে চুল ধোয়ার ফলে চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া, আগা ফাটা এবং চুল পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। নিচে চুল ধোয়ার একটি বৈজ্ঞানিক ও সঠিক ধাপসমূহ আলোচনা করা হলোঃ
১। চুল ধোয়ার আগে ব্রাশ করা
চুল ভেজানোর আগে একটি মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে ভালো করে জট ছাড়িয়ে নিন। ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া নরম থাকে, তাই জটযুক্ত অবস্থায় ধুতে গেলে চুল বেশি ছিঁড়ে যায়।
২. কুসুম গরম পানি দিয়ে ভেজানো
চুল ভেজানোর জন্য অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করবেন না, এতে চুল তামাটে ও রুক্ষ হয়ে যায়। হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। এটি মাথার ত্বকের লোমকূপ খুলে দেয়, ফলে ময়লা এবং অতিরিক্ত তেল সহজে পরিষ্কার হয়।
৩. শ্যাম্পু করার সঠিক নিয়ম
চুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী অল্প পরিমাণ শ্যাম্পু নিন। সরাসরি মাথায় শ্যাম্পু না ঢেলে হাতের তালুতে সামান্য পানির সাথে মিশিয়ে ফেনা তৈরি করে নিন। শ্যাম্পু শুধুমাত্র মাথার তালুতে ব্যবহার করুন। নখ দিয়ে না ঘষে আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো করে গোল গোল করে ম্যাসাজ করুন। চুলের নিচের অংশে আলাদা করে শ্যাম্পু দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ ধোয়ার সময় ওপরের ফেনা নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় বাকি চুল পরিষ্কার হয়ে যায়।
শ্যাম্পু করার পর চুল থেকে পানি চিপে বের করে দিন। এরপর চুলের মাঝখান থেকে শুরু করে আগা পর্যন্ত কন্ডিশনার লাগান। মনে রাখবেন, কন্ডিশনার কখনোই মাথার তালুতে বা স্ক্যাল্পে লাগানো যাবে না এতে চুল পড়া বেড়ে যায় এবং দ্রুত তেলতেলে হয়ে যায়। ২-৩ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
৫. ঠান্ডা পানি দিয়ে শেষ ধোয়া
সবশেষে সাধারণ বা ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এটি চুলের কিউটিকলগুলো বন্ধ করে দেয়, ফলে চুল চকচকে ও মসৃণ দেখায়।
৬. চুল শুকানোর পদ্ধতি
হাত ও নখের যত্ন: আকর্ষণীয় হাত ও মজবুত নখ পাওয়ার পূর্ণাঙ্গ গাইড
হাত ও নখ পরিষ্কারঃ
- হাতের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে প্রথমেই প্রয়োজন সঠিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা। একটি পাত্রে কুসুম গরম পানি নিন। তাতে সামান্য মাইল্ড শ্যাম্পু, এক চামচ লবণ এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এই পানিতে হাত ১০-১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। এটি নখের কোণায় জমে থাকা ময়লা নরম করে এবং রোদে পোড়া দাগ দূর করতে সাহায্য করে। এরপর একটি নরম ব্রাশ দিয়ে নখগুলো আলতো করে পরিষ্কার করে নিন।
- নখ শক্ত এবং চকচকে রাখতে প্রাকৃতিকভাবে পুষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। যাদের নখ পাতলা এবং দ্রুত ভেঙে যায়, তারা এক কোয়া রসুন নখে ঘষতে পারেন। রসুনের সেলেনিয়াম নখ শক্ত করে। এছাড়া সপ্তাহে দুবার কুসুম গরম অলিভ অয়েলে নখ ডুবিয়ে রাখলে নখের কিউটিকল সুস্থ থাকে। নখের হলদেটে ভাব দূর করতে লেবুর খোসা নখে ঘষুন। এতে নখ সাদা ও উজ্জ্বল হবে।
- হাতের মরা কোষ দূর না করলে ময়েশ্চারাইজার কাজ করে না। এক চামচ চিনি এবং এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে হাতে ৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন। চিনি স্ক্রাব হিসেবে কাজ করবে এবং লেবু প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসেবে হাতের কালচে ভাব দূর করবে। ধোয়ার পর হাত অবিশ্বাস্যভাবে নরম মনে হবে।
- হাতের চামড়া টানটান ও ফর্সা রাখতে এই মাস্কটি ব্যবহার করতে পারেন। ১ চামচ বেসন, ১ চামচ টক দই এবং সামান্য মধু। মিশ্রণটি পুরো হাতে লাগিয়ে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। এটি হাতকে গভীর থেকে পুষ্টি জোগাবে।
- হাত ধোয়ার পর বা স্যানিটাইজার ব্যবহারের পর হাত শুষ্ক হয়ে যায়। তাই সবসময় সাথে একটি হ্যান্ড ক্রিম রাখা ভালো।
- রাতে ঘুমানোর আগে হাতে ভালো করে ভ্যাসলিন বা নারিকেল তেল ম্যাসাজ করুন। সম্ভব হলে পাতলা সুতির হাতমোজা পরে ঘুমান। সকালে উঠে দেখবেন হাত রেশমের মতো নরম হয়ে গেছে।
- থালাবাসন মাজা বা কাপড় ধোয়ার সময় রাবারের গ্লাভস ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। সাবানের ক্ষতিকর কেমিক্যাল হাতের চামড়া খসখসে করে দেয়।
- দাঁত দিয়ে নখ কাটলে নখের আকার নষ্ট হয় এবং সংক্রমণের ভয় থাকে। সবসময় নেইল কাটার ব্যবহার করুন।
- নেইলপলিশ ব্যবহারের আগে একটি ট্রান্সপারেন্ট বেস কোট ব্যবহার করুন, যাতে নেইলপলিশের রঙ সরাসরি নখের ক্ষতি করতে না পারে।
সুস্থ ত্বকের জন্য লাইফস্টাইল টিপস
১. পর্যাপ্ত পানি পান ও হাইড্রেশন
সুন্দর ত্বক এবং ঝলমলে চুলের জন্য বাইরের রূপচর্চার চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ভেতর থেকে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা। আর এর প্রধান উৎস হলো পর্যাপ্ত পানি পান। আপনি দামী সব ক্রিম বা সিরাম ব্যবহার করলেও শরীরে পানির অভাব থাকলে ত্বক তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারাবে।
নিচে পর্যাপ্ত পানি পান ও হাইড্রেশনের গুরুত্ব এবং কিছু স্মার্ট টিপস দেওয়া হলোঃ
পানি শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়, যার ফলে ত্বক ভেতর থেকে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল দেখায়। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত তেল কম বের হয়, যা ব্রণ হওয়া রোধ করে। পানির অভাবে ত্বক কুঁচকে যায়। পর্যাপ্ত পানি পান করলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় থাকে এবং অকাল বার্ধক্য কমে। চুলের ফলিকলের আর্দ্রতা বজায় রাখতে পানি প্রয়োজন। ডিহাইড্রেশনের কারণে চুল রুক্ষ ও ভঙ্গুর হয়ে যায়।
দিনে কতটুকু পানি পান করবেন?
একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার (৮-১০ গ্লাস) পানি পান করা উচিত। তবে এটি আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম এবং ওজনের ওপর নির্ভর করে।
সাধারণ পানিকে করুন আরও শক্তিশালী
শুধু সাদা পানি পান করতে অনেকের একঘেয়ে লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে ডিটক্স ওয়াটার দারুণ কাজ করেঃ
লেবু ও শসাঃ এক লিটার জলে কয়েক টুকরো লেবু ও শসা ভিজিয়ে রাখুন। এটি আপনার মেটাবলিজম বাড়াবে এবং ত্বক পরিষ্কার করবে।
পুদিনা পাতাঃ এটি শরীরকে শীতল রাখে এবং হজমে সাহায্য করে।
- ঘুম থেকে ওঠার পর খালি পেটে অন্তত এক গ্লাস জল পান করার অভ্যাস করুন। এটি শরীরের সব অঙ্গকে সজাগ করে।
- খাওয়ার ঠিক আগে বা পরে খুব বেশি জল না খেয়ে অন্তত ৩০ মিনিট আগে-পরে পান করুন।
- শুধু জল নয়, ডায়েটে জলীয় অংশ বেশি এমন ফল (যেমন: তরমুজ, কমলা, মাল্টা) এবং সবজি (যেমন: শসা, লাউ) রাখুন।
- বর্তমান ব্যস্ত জীবনে জল খেতে ভুলে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই ফোনে 'ওয়াটার রিমাইন্ডার' অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।
২. সুষম খাদ্যাভ্যাস
রূপচর্চা কেবল বাইরে থেকে প্রসাধনী মাখার বিষয় নয়, বরং আপনি যা খাচ্ছেন তার প্রতিফলন সরাসরি আপনার ত্বক ও চুলে পড়ে। একটি সুষম খাদ্যাভ্যাস আপনার ত্বকের কোষকে ভেতর থেকে পুনর্গঠন করে এবং দীর্ঘস্থায়ী সৌন্দর্য নিশ্চিত করে।
নিচে ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য সুষম খাদ্যাভ্যাসের একটি গাইডলাইন দেওয়া হলোঃ
প্রোটিনঃ ত্বক ও চুলের ভিত্তি
আমাদের চুল এবং ত্বকের প্রধান উপাদান হলো প্রোটিন (কেরাটিন ও কোলাজেন)। খাবারের তালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে চুল পাতলা হয়ে যায় এবং ত্বক ঝুলে পড়ে। উৎসঃ ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, ডাল, পনির এবং সয়া বিন।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডঃ প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার
ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখতে এবং প্রদাহ কমাতে ওমেগা-৩ জাদুর মতো কাজ করে। এটি ত্বককে নরম রাখে এবং চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। উৎসঃ সামুদ্রিক মাছ, তিসির তেল, আখরোট এবং চিয়া সিড।
ভিটামিন-সি ত্বকে কোলাজেন তৈরি করতে সাহায্য করে, যা ত্বককে টানটান রাখে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। উৎসঃ লেবু, আমলকী, পেয়ারা, জাম, সবুজ শাকসবজি এবং রঙিন ফলমূল।
ভিটামিন-ইঃ সুরক্ষার কবচ
ভিটামিন-ই ত্বককে সূর্যের ক্ষতি থেকে বাঁচায় এবং কোষের ক্ষয় রোধ করে। এটি দাগহীন ত্বকের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। উৎসঃ কাঠবাদাম, সূর্যমুখীর বীজ এবং পালং শাক।
জিংক ও বায়োটিনঃ চুল পড়া রোধে
সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে আদর্শ খাদ্যতালিকায় যা যা এড়িয়ে চলবেনঃ
৩. বিউটি স্লিপ ও স্কিন কেয়ার
রূপচর্চার সব নিয়ম মানার পরেও যদি আপনার চেহারায় ক্লান্তি ভাব থাকে, তবে বুঝতে হবে আপনার 'বিউটি স্লিপ' বা পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব রয়েছে। রূপচর্চার জগতে ঘুমকে বলা হয় সবচেয়ে সাশ্রয়ী এবং কার্যকর চিকিৎসা। ঘুমের সময় আমাদের শরীরের কোষগুলো মেরামত হয় এবং ত্বক নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।
ঘুমের সময় ত্বকে কী ঘটে?
বিউটি স্লিপের সঠিক নিয়ম
রাতে ঘুমানোর আগের মিনি রুটিন
- কখনোই মেকআপ বা সারাদিনের ময়লা নিয়ে ঘুমাতে যাবেন না। এটি লোমকূপ বন্ধ করে ব্রণের সৃষ্টি করে।
- রাতে ত্বক মেরামতের কাজ দ্রুত হয়, তাই এ সময় ভিটামিন-সি বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
- ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে ফোন বা ল্যাপটপ দূরে রাখুন। নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষতি করে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।
৪. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
রূপচর্চা এবং সুস্থ জীবনযাত্রার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ। আমাদের শরীর ও মনের সংযোগ অত্যন্ত গভীর; যখন আমরা মানসিকভাবে অস্থির বা চাপে থাকি, তার প্রথম প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বক এবং চুলে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘স্ট্রেস রেসপন্স’।
নিচে মানসিক চাপ কীভাবে সৌন্দর্য নষ্ট করে এবং এটি নিয়ন্ত্রণের উপায়গুলো তুলে ধরা হলোঃ
মানসিক চাপ কীভাবে সৌন্দর্য নষ্ট করে?
মানসিক চাপের সময় শরীরে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়, যা ত্বকের তেল গ্রন্থিকে অতিসক্রিয় করে তোলে। ফলে ব্রণের সমস্যা বেড়ে যায়। এছাড় অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণে কোলাজেন ভেঙে যায়, ফলে খুব অল্প বয়সেই কপালে ভাঁজ বা বলিরেখা দেখা দেয়। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ 'টেলোজেন এফ্লুভিয়াম' নামক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে, যাতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হারে চুল পড়তে শুরু করে। স্ট্রেসের কারণে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে ত্বক তার স্বাভাবিক সজীবতা হারিয়ে ফ্যাকাশে দেখায়।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের সহজ উপায়
- প্রতিদিন মাত্র ১০-১৫ মিনিট চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস নেওয়া এবং ছাড়ার অভ্যাস করুন। এটি মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ায় এবং কর্টিসল হরমোন কমায়।
- ব্যায়াম করলে শরীর থেকে এন্ডোরফিন বা 'হ্যাপি হরমোন' নিঃসৃত হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে মন ভালো করে দেয়।
- বাগান করা, বই পড়া বা গান শোনার মতো কাজগুলো মনের ওপর থেকে চাপের বোঝা কমিয়ে দেয়।
- দিনে কিছুটা সময় খোলা বাতাসে বা সবুজ ঘাসের ওপর হাঁটাহাঁটি করার চেষ্টা করুন।
মনের প্রশান্তির জন্য রূপচর্চা
৫। ব্যায়াম ও ঘাম ঝরানো
রূপচর্চার সামগ্রিক আলোচনায় ব্যায়াম ও ঘাম ঝরানো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অনেকে মনে করেন ব্যায়াম শুধু ওজন কমানোর জন্য, কিন্তু আসলে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম আপনার ত্বকের কোষকে ভেতর থেকে পুনরুজ্জীবিত করে।
নিচে ব্যায়াম কীভাবে আপনার সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে তার কারণ ও সঠিক নিয়মগুলো দেওয়া হলোঃ
ব্যায়ামের মাধ্যমে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা
ব্যায়াম করলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় এবং সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ত্বকের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান পৌঁছায়। এই প্রক্রিয়ায় ত্বক প্রাকৃতিকভাবেই গোলাপি আভা এবং সজীবতা ফিরে পায়।
ঘামের মাধ্যমে ডিটক্সিফিকেশন
ঘাম হলো শরীরের নিজস্ব 'ক্লিনজিং' পদ্ধতি। যখন আমরা ব্যায়াম করি, তখন ঘামের সাথে রোমকূপের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত টক্সিন এবং ময়লা বেরিয়ে আসে। এটি ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে ব্রণের প্রবণতা কমায়।
স্ট্রেস ও হরমোন নিয়ন্ত্রণ
ব্যায়াম করলে শরীরে 'এন্ডোরফিন' বা সুখের হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি মানসিক চাপ কমায়, যা পরোক্ষভাবে ত্বককে বলিরেখা এবং চোখের নিচের কালো দাগ থেকে রক্ষা করে।
ব্যায়ামের সময় ও পরে ত্বকের বিশেষ যত্নঃ
- ব্যায়াম করার আগে অবশ্যই মুখ থেকে মেকআপ বা ভারী ক্রিম ধুয়ে ফেলুন। কারণ ঘাম আর মেকআপ মিশে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা থেকে বড় ব্রণ তৈরি হয়।
- ব্যায়াম শেষ করার ৫-১০ মিনিটের মধ্যে হালকা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ঘাম যেন ত্বকে শুকিয়ে না যায়, কারণ ঘামে থাকা লবণ ও ব্যাকটেরিয়া ত্বকে জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে।
- জিমের বা অন্যের ব্যবহার করা তোয়ালে মুখে ছোঁয়াবেন না। নিজের পরিষ্কার সুতির তোয়ালে দিয়ে আলতো করে ঘাম মুছে নিন।
- ব্যায়ামের সময় শরীর থেকে প্রচুর জল বেরিয়ে যায়, তাই ব্যায়ামের আগে ও পরে পর্যাপ্ত জল পান করুন।
৬. ক্ষতিকর অভ্যাস বর্জন
নিচে রূপচর্চার ক্ষেত্রে প্রধান কিছু ক্ষতিকর অভ্যাস এবং সেগুলো বর্জনের উপায় তুলে ধরা হলোঃ
মেকআপ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়া
- করণীয়ঃ যতই ক্লান্তি থাকুক, ডাবল ক্লিনজিং (অয়েল ক্লিনজার ও ফেসওয়াশ) করে তবেই ঘুমাতে যান।
বারবার মুখে হাত দেওয়া
- করণীয়ঃ মুখ স্পর্শ করার অভ্যাস ত্যাগ করুন এবং হাত সবসময় পরিষ্কার রাখুন।
ব্রণ খুঁটানো বা ফাটানো
- করণীয়ঃ ব্রণের ওপর স্পট ট্রিটমেন্ট বা টি-ট্রি অয়েল ব্যবহার করুন, কিন্তু হাত দেবেন না।
সানস্ক্রিন ব্যবহার না করা
- করণীয়ঃ প্রতিদিন সকালে অন্তত এসপিএফ ৩০ যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস করুন।
ধূমপান ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন
- করণীয়ঃ ধূমপান পুরোপুরি বর্জন করুন এবং ক্যাফেইনের বদলে ভেষজ চা বা ফলের রস পান করুন।
গরম জল দিয়ে মুখ ও চুল ধোয়া
- করণীয়ঃ সবসময় সাধারণ তাপমাত্রার জল বা হালকা কুসুম গরম জল ব্যবহার করুন।
শেষ কথা
প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের যত্ন এবং সঠিক জীবনযাপনই হলো দীর্ঘস্থায়ী সৌন্দর্যের মূল ভিত্তি। আমাদের এই পূর্ণাঙ্গ গাইডে আলোচিত ঘরোয়া প্রতিকারগুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে আপনি পাবেন উজ্জ্বল ত্বক, সিল্কি চুল এবং সুস্থ নখ। ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিদিন নিজের জন্য কিছুটা সময় বরাদ্দ রাখা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি আপনার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির অন্যতম উপায়। সঠিক নিয়ম ও ধৈর্যের সাথে এই রুটিনগুলো মেনে চলে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন প্রাকৃতিকভাবে আকর্ষণীয়।


আইটি শহিদ ওয়ার্ল্ড এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url